প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নাসিরনগরে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর এ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর সংসদীয় আসনের এমপি বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম।

জানা গেছে, প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শহরে একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্টৃ্কতিক কেন্দ্র নির্মাণ করছে সরকার। এর মধ্যে বি ক্যাটাগরিতে সারাদেশে উপজেলা সদরে নির্মাণ করা হচ্ছে ৪৭৫টি। নাসিরনগরেও তৈরি হচ্ছে এ মডেল মসজিদ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এসব মসজিদ পরিচালিত হবে।

সরেজমিন প্রকল্প এলাকা ঘুরে জানা গেছে, প্রথম কয়েকদিন কাজের গতি দেখা গেলেও দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ আছে নির্মাণকাজ। প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ইট, বালু ও পাথর। লোহায় পড়েছে মরিচা। প্রকল্প এলাকায় গত কয়েক মাস ঘুরেও দেখা মেলেনি প্রকল্প সংশ্নিষ্ট কোনো কর্মকর্তার। এমনকি দেখা মেলেনি কোনো নির্মাণ শ্রমিকেরও। প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মূল ভবনের এক তলার ছাদের কাজ সম্পন্ন হয়নি। যেটুকু কাজ হয়েছে, তাও পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। অথচ কাজ বন্ধের বিষয়ে কিছুই জানে না গণপূর্ত বিভাগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদ নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের পাথর। দীর্ঘ ২০ মাসে মাত্র ১৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জে হাউজিং এন্টারপ্রাইজ। কাজের বিষয়ে প্রকল্প সংশ্নিষ্ট ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জে হাউজিং এন্টারপ্রাইজ দিচ্ছে না কোনো সঠিক তথ্য। এ নিয়ে নাগরিক সমাজে রয়েছে ক্ষোভ।

নাসিরনগরের স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন, খোকন মিয়াসহ বেশ কয়েকজন বলেন, সারাদেশে প্রধানমন্ত্রী ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করছে, সেটা খুব ভালো খবর। কিন্তু সরকারের এই ভালো কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে কিছু অর্থলোভী ঠিকাদার। কাজের শুরুতেই নিম্নমানের পাথর ও বালু ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় লোহায় মরিচার আবরণ পড়ে আছে।

ঠিকাদার আজম মিয়া বলেন, এ প্রকল্পে ফান্ড সংকট, তাই এতদিন কাজ বন্ধ ছিল। খুব তাড়াতাড়ি আবার কাজ শুরু করব। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করায় তিনি কোনো জবাব দেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক শাহআলম বলেন, এই কাজের দায়িত্ব আমাদের নয়। কিন্তু উদ্বোধনী ফলকে লেখা আছে এ কাজের বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও ইসলামি ফাউন্ডেশন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ভালো বলতে পারবে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

Jalalabad/5789