মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন
Logo
শিরোনাম :
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ওসমানী নগরে এমপি মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে জুতা মিছিল সিলেট জেলা পরিষদের নির্বাচনে আলোচনায় ‘কয়েস’ গোলাপগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়ে এনামুল কবিরের অপকর্ম সিলেটে তালামীযের বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত “২৪ বছরে লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত” কুয়েত প্রবাসী ৩ সংবাদকর্মীদের একান্ত মতবিনিময় ফেঞ্চুগঞ্জে আল মাহাব্বাহ হাফিজিয়া মাদরাসা ও মসজিদ উদ্বোধন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ট্রাক-পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মেম্বার প্রার্থী জনি আলোচনায় গোলাপগগঞ্জে সাংবাদিক রাসেলের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি: থানায় জিডি রাজনগরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন দারুল কিরাত কার্ডিফ জালালিয়া মসজিদ শাখার পুরুষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান নাবিন রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলামের উদ্যোগে চা শ্রমিকদের অর্থ বিতরণ এসএমপি কমিশনারের সাথে সিলেট বিভাগীয় রিপোর্টার্স ক্লাব নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

উপাধ্যক্ষ মাওলানা ছালিক আহমদ (রহ.) ছিলেন দ্বীনের পথের একজন সঠিক দায়ী

রফিকুল ইসলাম মামুন
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১
  • ৫৫৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

রফিকুল ইসলাম মামুন, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও সাবেক মেম্বার

‘কুল্লু নাফছিন জা ইকাতুল মাউত ‘ প্রত্যেক আত্মাকে একদিন মৃত্যুর অস্বাদন স্বাদ গ্রহণ করিতে হইবে (আল-কুরআন)। এ ধরণীর বুকে জন্মিলে মরিতে হইবে চিরন্তন সত্য মৃত্যুকে কেউ কোনদিন অস্বীকার করেনি, বা উপেক্ষা করতে পারেনি, পারবেওনা। যারাই এই পৃথিবীতে জন্মেছেন প্রত্যেকেই তাদের প্রভূর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যেতে হয়েছে চিরস্থায়ী আপন ঠিকানায়। আমরা যারা জীবিত আছি এবং যারা আসবেন ধরণীর এই সুতিকা ঘরে তারাও একই পথের পথিক হবেন। এর পরও কিছুকিছু মৃত্যু হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়, দুমড়ে মুচড়ে যায় কলিজা। মৃত্যুর সংবাদ মেনে নেয়া কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে দাঁড়ায়। আজ যাকে নিয়ে আমার লিখনী সেই প্রিয় আল্লাহ ওয়ালা মানুষটির মৃত্যুর সংবাদ শুনে বিশ্বাস করতে পারছিলামনা। তিনি হচ্ছেন পশ্চিম সিলেটের হাদীস জগতের উজ্বল নক্ষত্র সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের ভুরকি গ্রামে জন্ম নেয়া দ্বীনের তারকা ঐতিহ্যবাহি দ্বীনি বিদ্যাপীঠ সৎপুর কামিল মাদরাসার সম্মানিত উপাধ্যক্ষ মুহাদ্দিস মাওলানা ছালিক আহমেদ ভুরকি’র হুজুর (রহঃ)। যার মৃত্যুর সংবাদ শুনতে হয়েছিল গত ২৪শে জুন বৃহস্পতিবার পূর্ব আকাশে ভোরের সূর্য উদয়ের সাথে সাথেই। তিনির সাথে আমার পরিচয় হয়েছে অনেক বছর পূর্বে, প্রায়ই দেখা হতো উনি উনার সাবলীল ভাষায় জিজ্ঞেস করতেন কেমন আছো, এবং আমার দু’জন চাচাতো ভাই উনার ক্লাসমেট ছিলেন হযরত মাওলানা আব্দুল মুমিন সাহেব যিনি বর্তমানে ছাতক উপজেলার নুরুল্লাহপুর দাখিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক আর অপরজন হচ্ছেন পশ্চিম সিলেটের গৌরব বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন হযরত মাওলানা মর্তুজা আলী সাহেব আমানতপুরী। উনারা ১৯৯০ সালে একসাথে কামিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। মাওলানা মর্তুজা আলী আমানতপুরীর মুখে উনার মেধার অতুলনীয় প্রশংসা শুনেছি। মরহুম মগবুর মাওলানা ছালিক আহমেদ (রহ.) এর জানাযায় স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দিতে গিয়ে উনার সহকর্মী সহ অনেকেই মুচড়ে যান। তিনি ছিলেন ইলমে দ্বীন চর্চার অন্যতম সূতিকাগার বাংলাদেশ তথা সিলেটের অন্যতম দ্বীনি বিদ্যাপীঠ সৎপুর কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ।

যিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক, দ্বীনের দায়ী, মিষ্টিভাষী আলোচক, সু-লেখক, ইসলামী স্কলার, ইলমে নববীর ধারক বাহক, প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব, তাফসিরকারক, মুহাদ্দিস, ফিকহবিদ। জীবন চলার পথে ছিলেন খুবি বিনয়ী, নম্র, ভদ্র, আল্লাহওয়ালা, পরহেযগার। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর যুগশ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও অভিভাবক। তিনি ছিলেন বহু গুণে গুণান্বিত মহান ব্যক্তিত্ব। ১৯৬৮সালে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের ভুরকি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনির পিতা ছিলেন তৎকালীন খ্যাতিমান পীর আবুল লেইছ (রহ.)। মাওলানা ছালিক আহমদ (রহ.) ছোটবেলা থেকেই ছিলেন নম্র, ভদ্র ও তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী। যা তাঁর শিক্ষকগণের বক্তব্য থেকেই প্রস্ফুঠিত হয়। নিজ ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত ইলমে দ্বীনের অন্যতম বিদ্যাপীঠ সৎপুর কামিল মাদরাসা থেকে ১৯৯০ সালে কামিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম বিভাগ লাভ করে কৃতিত্বের সাথে লেখাপড়া সমাপ্ত করেন। তিনি ১৯৮১ সালে যামানার শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ আল্লামা ফুলতলী (রহ.) এরকাছ থেকে ইলমে কিরাতের সনদ লাভ করেন।

তিনি ইলমে দ্বীনের চর্চা ও প্রচার প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি জকিগঞ্জ ও ইছামতি কামিল মাদরাসায় দুবছর আরবী প্রভাষক হিসেবে অধ্যাপনা করেন। এরপর ১৯৯৩ সালে তিনি সৎপুর কামিল মাদরাসায় আরবীর প্রভাষক পদে যোগদান করেন পরবর্তীতে হাদীস বিভাগে এবং সর্বশেষ উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।

যুগশ্রেষ্ঠ এই মহান আলেমেদ্বীন শুধু মাত্র অধ্যাপনাই নয় দ্বীন প্রচারে সিলেট বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্বীন প্রচারের মাহফিল গুলিতে আলোচনার মাধ্যমে এক অভূতপূর্ণ জাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন। তিনির সুমিষ্ট কন্ঠে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় দ্বীনের কথা বলতেন। তিনির আচার আচরণে, চাল চলনে, আমলে আখলাকে সুন্নতে নববীর পরিপূর্ণতা প্রকাশ পেতো। তিনি শুধু একজন মুহাদ্দিসই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইলমে তাফসীর ও ইলমে ফিকহের অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী। আল্লাহর প্রিয় খলিল, দ্বীনের দায়ীকে বিদায় জানাতে প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক আমজনতা অশ্রুসিক্ত নয়নে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনির জানাযায়।

এই ক্ষণজন্মা মহামানব মরহুম হযরত মাওলানা ছালিক আহমদ (রহ.) বিগত ২৪শে জুন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাত ঘটিকায় সিলেটের রাগীব রাবেয়া হাসপাতালে ৫৩ বছর বয়সে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে রাফিকে আলা’র সান্নিধ্যে চলে যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ইন্তেকালের সময় তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, তিন মেয়ে, আত্নীয় স্বজন, হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গিয়েছেন। মহান দয়াময় রবের কাছে তিনির রুহের মাগফেরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান হিসাবে কবুল করে নিতে আবদার পেশ করছি, আমীন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd.com