শৈশব দুরন্তপনায় কাটলেও কৈশরে এসেই দোরারোগের হানার শিকার হন তিন ভাই-বোন। অর্থাভাবে দরিদ্র মা-বাবা তাদের ডাক্তারী চিকিৎসা না করাতে পারলেও কবিরাজি ঝাড়-ফুকের কোন কমতি ছিল না দরিদ্র মা-বাবার। অবশেষে দোরারোগের হানায় তারা হয়ে পড়েন শারীরিক প্রতিবন্ধী। ফলে প্রতিবন্ধী তিন সন্তান ও সংসার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দরিদ্র মা-বাবা। এমন ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রতনপুর এলাকায়।
সরেজমিনে পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২০-২৫ বছর আগে ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়ানগর এলাকার জিন্নত আলী দেওয়ান (৬৫) জীবিকার খোঁজে তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আসেন। পরে তারা উপজেলার রতনপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জিন্নাত আলী আদম ব্যবসা শুরু করেন। কিন্ত কিছুদিন ব্যবসা করার পর তিনি ক্ষতি গ্রস্থ হয়ে নিঃস্ব হয়ে যান। পরে বনবিভাগের একটু ছোট ঘর তৈরি করে তারা বসবাস শুরু করেন। এরপর তিনি প্রথমে রাজমিস্ত্রী পরে স্থানীয় একটি কারখানায় চাকুরী কাজ করেন।
কিন্তু তার শ্বাসকষ্ট রোগ থাকায় কারখানার কর্তৃপক্ষ তাকে চাকুরী থেকে অব্যাহিত দেয়। অভাবের সংসার কি আর করার জিন্নত আলী একটি ব্র্যাক এনজিও এক লাখ টাকা তুলে মুদি দোকান দেন। ওই ঋণ পরিশোধ করতে প্রতি মাসে দশ হাজার টাকা কিস্তি দিয়ে কোন রকম খেয়ে পরে তাদের দিন চলছিল। তাদের সংসার আলোকিত করে জন্ম নেয় জোসনা আক্তার (৩৫) জুলিয়া আক্তার (২৭) ইমরান দেওয়ান (২৫) ও ঝুমা আক্তার (২০)।
শৈশবে তারা প্রত্যেকে লেখা-পড়া, সংসারে সহযোগীতা ও দুরন্তপনায় কাটতে থাকে। কিন্তু কৈশরে পা রাখতেই একে একে জোসনা, ইমরান ও ঝুমা অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রথমে তাদের কোমরে ব্যাথা, কয়েকদিন পর পায়ে ব্যাথা হয়। এভাবে কিছু দিন যেতে না যেতেই কোমর থেকে অবস হয় এবং আর হাটা চলা করতে পাওে না। দরিদ্র মা-বাবার চিকিৎসা করার ক্ষমতা না থাকায় বিভিন্ন কবিরাজের কাছে গিয়ে ঝাক-ফুক দিয়েও লাভ হয়নি। অবশেষে তারা তিনজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। তাদের তিনজনে প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও আর কোনো সরকারী সহযোগীতা পাননি। দরিদ্র মা-বাবা পায়নি বয়স্ক ভাতাও। ফলে জরুরি হলেও তাদের হুইল চেয়ার কিনে দিতে পারছেন না দরিদ্র্র পরিবার। তবে তাদের চিকিৎসার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন দরিদ্র মা-বাবা।
প্রতিবন্ধী সন্তানদের মা দেলোয়ারা বেগম বলেন, ‘পাঁচ-ছয় বছর আগেও এরা ভালো ছিল। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মাত্রই তাদের প্রথমে কোমরে ব্যাথা, কয়েক দিন পর কোমরের নিচ থেকে পা পর্যন্ত অবশ হয়ে গেছে। তার দাবী, কেউ যদি সন্তানদের হুইল চেয়ার ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে আমাদের কষ্ট একটু হতো। বাবা জিন্নত আলী বলেন, আমার চার সন্তানের মধ্যে তিনজনই অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ঘরের ভেতর পড়ে আছে। তাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এই পরিস্থিতিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. নাজমুন নাহার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি বংশগত কোনো রোগ।