মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন
Logo
শিরোনাম :
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ওসমানী নগরে এমপি মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে জুতা মিছিল সিলেট জেলা পরিষদের নির্বাচনে আলোচনায় ‘কয়েস’ গোলাপগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়ে এনামুল কবিরের অপকর্ম সিলেটে তালামীযের বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত “২৪ বছরে লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত” কুয়েত প্রবাসী ৩ সংবাদকর্মীদের একান্ত মতবিনিময় ফেঞ্চুগঞ্জে আল মাহাব্বাহ হাফিজিয়া মাদরাসা ও মসজিদ উদ্বোধন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ট্রাক-পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মেম্বার প্রার্থী জনি আলোচনায় গোলাপগগঞ্জে সাংবাদিক রাসেলের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি: থানায় জিডি রাজনগরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন দারুল কিরাত কার্ডিফ জালালিয়া মসজিদ শাখার পুরুষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান নাবিন রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলামের উদ্যোগে চা শ্রমিকদের অর্থ বিতরণ এসএমপি কমিশনারের সাথে সিলেট বিভাগীয় রিপোর্টার্স ক্লাব নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

তিন প্রার্থীই ‘হেভিওয়েট’ : যা ছিল হলফনামায়

জালালাবাদ ভিউ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১
  • ৫৫২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

২৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাই শেষে প্রতিদ্বন্দ্বী ছয়প্রাথীর চারজনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

বৈধ চার প্রার্থীর হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে তিনজন নিজেকে ব্যবসায়ী এবং একজন কৃষক হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তবে নির্বাচনে অংশ নেয়া দুজনই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। নির্বাচনে অংশ নেয়া চারজনের মধ্যে তিনজনকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে ধরে নিয়ে হিসেব-নিকেশ করছেন কর্মী-সমর্থকরা।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হাবিবের নিজের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেশি। সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য (বহিষ্কৃত) শফি আহমদ চৌধুরী। কিন্তু তার ঋণও বেশি।

এদিকে সম্পদে কম যান না জাতীয় পার্টির প্রার্থীও। নিজের নামে সম্পত্তিতো আছেই সেই সঙ্গে স্ত্রীর নামে আছে জায়গা ও স্বর্ণালঙ্কার। বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া নিজেকে স্বশিক্ষিত এবং একজন কৃষক দাবি করেছেন।

জমা দেয়া হলফনামা অনুযায়ী হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, আগেও ছিল না তিনি নিজেকে প্রবাসী পল্লী গ্রুপের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বলেও উল্লেখ করেছেন। এ খাত থেকে তার কোনো আয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতায় স্নাতক পাশ দেখিয়েছেন। সম্পদের হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন নগদ টাকা আছে ৮৭ লাখ ৫২ হাজার। তার স্ত্রীর কাছে নগদ আছে এক কোটি ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৩০ টাকা। সবমিলিয়ে তাদের কাছে নগদ টাকার পরিমাণ দুই কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৩৫ টাকা। ব্যাংকে হাবিবুর রহমানের ৫২ হাজার ২৪৪ টাকা ও তার স্ত্রীর নয় হাজার ৪৪৮ টাকা জমা আছে। শেয়ারবাজারে আছে তিন হাজার ৫০০ শেয়ার। যেগুলোর মূল্য সাত লাখ ১০ হাজার টাকা।

কৃষিখাত থেকে কোনো আয় নেই হাবিবুর রহমানের। তবে তার স্ত্রী এ খাত থেকে বছরে এক লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা আয় করেন। হাবিবের নামে পাঁচ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৮ টাকার অকৃষি জমি আছে; তবে জমির পরিমাণ তিনি উল্লেখ করেননি।

ঢাকার পূর্বাচলে সাত কাঠা প্লটের মালিক হাবিব। এর মূল্য ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তার কাছে কোনো স্বর্ণ নেই। এমনকি আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রীরও কোনো মূল্য দেখাননি তিনি। ব্যক্তিগত গাড়ি সম্পর্কিত তথ্যও নেই হলফনামায়। হাবিবের ব্যক্তিগত কোনো ঋণ বা দেনা নেই। তবে প্রবাসী পল্লী গ্রুপের নামে নয় কোটি ৫৯ লাখ টাকা ঋণ আছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় সদস্য পদ থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী নিজের সম্পদের পরিমাণ ৪৯ কোটি ২৫ লাখ ৪৩৯৪ টাকা বলে হলফনামায় জানিয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাশ দাবি করে তিনি ২০০৭ সালে একটি মামলার আসামি ছিলেন বলে জানান। পরে তিনি মামলা থেকে বেকসুর খালাস পান।

পেশায় আমদানি-রফতানি ব্যবসায়ী শফি চৌধুরী অ্যালবার্ট ডেভিট, প্রাইভেট লিমিটেড’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ব্যবসায়ী শফি চৌধুরীর বার্ষিক আয় ৮০ লাখ ১৩ হাজার ৫৮৮ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৩২৭ টাকা, ঘর ভাড়া থেকে ২৭ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৫ টাকা ও ব্যাংক ইন্টারেস্ট থেকে এক লাখ ২৫ হাজার ২৭৬ টাকা আয় করেন। নগদ ও জমা মিলিয়ে ব্যাংকে রয়েছে দুই কোটি ৭৬ লাখ ৫১২ টাকা। কন্টিনেন্টাল ট্রাভেলস লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল ফিশারি অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেড, ট্রান্সকম সিকিউরিটি লিমিটেড, ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তার নিজ নামে শেয়ার রয়েছে। অ্যালভার্ট ডেভিট (বিডি) লিমিটেড-এ রয়েছে ডিপোজিট মানি ও শেয়ার। পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত যৌথ মালিকানায় তিনি ৫০০ বিঘা জমির মালিক।

রাজধানী ঢাকার গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর রোডে নিজ নামে এক কোটি ১১ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাড়ি রয়েছে। ৪৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৪৭ টাকা মূল্যের একটি নতুন (রেইন রোভার জীপ) গাড়ি ও দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি পুরাতন গাড়ি রয়েছে।

বিভিন্ন ব্যবসায় তার ৩৯ কোটি নয় লাখ ৩২ হাজার ৭৭৯ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তিনি মোট ৪৯ কোটি ২৫ লাখ চার হাজার ৩৯৪ টাকা মূল্যের সম্পদের মালিক। তার সাত কোটি পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭১ টাকা ঋণ রয়েছে। এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে ব্যাংকিং মাধ্যমে ছয় কোটি ১৬ লাখ ছয় হাজার ২৬ টাকা ঋণ নিয়েছেন। সায়েরা চৌধুরীর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন ৮৯ লাখ ৫৪৫ টাকা।

জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক বিএসসি পাশ। তার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা ছিল। এ মামলায় নির্দোষ প্রমাণ হওয়ায় মামলাটি খারিজ হয় বলেও উল্লেখ করেন।

পেশায় ব্যবসায়ী আতিক প্রিন্স গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান অ্যান্ড ম্যানেজিং ডাইরেক্টর। প্রিন্স রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড, প্রিন্স মেডিকেল সেন্টার ও সিলেট সিটি মেডিকেল সেন্টার নামক তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি।

তিনি ব্যবসা থেকে বার্ষিক ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও নির্ভরশীলরা তিন লাখ ৪৭ হাজার টাকা আয় করেন। আর অস্থাবর সম্পদ হিসেবে নিজের নামে ২২ লাখ আট হাজার ৪৯৩ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নগদ রয়েছে। নিজের নামে ২০ লাখ ৭০ হাজার ১৬৯ টাকা ও স্ত্রীর নামে পাঁচ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে। নিজের নামে প্রিন্স রিয়েল এস্টেটের ১৬ হাজার শেয়ার রয়েছে। যার মূল্য ১৬ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে একই প্রতিষ্ঠানের দুই হাজার শেয়ার রয়েছে। যার মূল্য ২ লাখ টাকা। ছেলে ওয়ালিউর রহমানের নামে একই প্রতিষ্ঠানের দুই হাজার শেয়ার রয়েছে। যার মূল্য দুই লাখ টাকা।

নিজের নামে ১০ লাখ টাকার জীপ গাড়ি রয়েছে। ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের প্রাডো গাড়ি-যা তিনি এমডি হিসেবে ব্যবহার করেন। গাড়িটি কোম্পানির নামে। নিজের নামে সাত লাখ টাকার ১০ ভরি স্বর্ণ ও স্ত্রীর নামে ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার ২৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। নিজের নামে নয় লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকার ও স্ত্রীর নামে দুই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। নিজের নামে দুই লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে এক লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। নিজের নামে সিলেট মেডিকেল সেন্টারের আড়াই লাখ টাকার শেয়ার ও প্রিন্স মেডিকেল সেন্টারের ৩০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি রয়েছে।

স্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে, নিজের নামে দক্ষিণ সুরমার হরগৌরী মৌজায় তিন লাখ ৫৬ হাজার টাকার ১৫ শতক জমি, হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের ধানী জমি। স্ত্রীর নামে ঢাকার সাতারকুল মৌজায় (নিকুঞ্জ) ১০ কাঠা জমি, যার মূল্য ৮০ হাজার টাকা, যৌথ মালিকানায় মোগলাবাজারের জাহানপুরে ৪০ লাখ টাকার ৮ বিঘা জমি রয়েছে।

নিজের নামে ঢাকার নিকুঞ্জ-২ জোয়ার সাহারা মৌজায় রাজউক থেকে প্রাপ্ত চার লাখ ৫০ হাজার টাকার, রামপুরা উলন মৌজায় ৮০ হাজার টাকার চার কাঠা, হবিগঞ্জের শ্যামলী আবাসিক এলাকায় সাড়ে সাত লাখ টাকার সাড়ে পাঁচ শতক এবং ৪৫ হাজার টাকার ৩৬ শতক জমি, হবিগঞ্জের শ্যামলী আবাসিক এলাকায় ৩৫ লাখ টাকার বাড়ি, ঢাকার (বারিধারা নর্থ) কালাচাঁদপুরে সাড়ে নয় লাখ টাকার ফ্ল্যাট ও বারিধারা ৬৬ পার্ক রোডে ৪০ লাখ ৫৭ হাজার ৫২৫ টাকা মূল্যের ফ্ল্যাটের অর্ধেক মালিকানা রয়েছে।

স্ত্রীর নামে গুলশান-২ (রোড-৩৫) এ ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার ফ্ল্যাট, বারিধারা ৬৬ পার্ক রোডে ৪০ লাখ ৫৭ হাজার ৫২৫ টাকা মূল্যের ফ্ল্যাটে অর্ধেক মালিকানা রয়েছে।

জালালাবাদ /৪৬৭৮

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd.com