হঠাৎই বিকট শব্দ। প্রচণ্ড কম্পন। তারপরই ঘটছে অবিশ্বাস্য ঘটনা। পায়ের তলার সমতলে পলকে ১০০ ফুট গর্ত। কোথাও কোথাও তারও বেশি। ঠিক যেন হরর ছবির দৃশ্য! গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ব প্রকৃতিতে ঠিক এমনটাই ঘটছে। পৃথিবীর নতুন এই আতঙ্কের নাম ‘দানবগর্ত’।
বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘সিঙ্কহোল’। ধর্মবিশ্বাসীরা বলছেন ‘দোজখের দরজা’। গত এক মাসে পরপর পাঁচ দেশে দানবাকৃতির গর্ত তৈরির পর নতুন আলোচনায় এসেছে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের উৎপত্তি ও কারণ। ঝড়-বৃষ্টি, ভূমিধসের মতোই বাড়ছে এই দানবগর্ত। রাস্তায়, খেলার মাঠে, খেতে, পুকুর বা সুইমিংপুলে কিংবা উন্মুক্ত প্রান্তরে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সিঙ্কহোলটি আবিষ্কৃত হয়েছে ৬ জুন। ইয়েমেনের আল মাহরা রাজ্যের মরুভূমি এলাকা বারহুতে। স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছে ‘নরকের কুয়া’। ১০০ ফুট চওড়া এবং ২৫০ ফুট গভীর। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া গর্তটি ইয়েমেনের তৎকালীন রাজধানীর সানা থেকে ৮০০ মাইল দূরে ওমান সীমান্তের কাছে। গর্তটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে গল্প আছে-দৈত্যদের জন্য তৈরি কারাগার এটি। আবার কেউ কেউ বলছেন, না, এটা নরকে যাওয়ার রাস্তার মুখ।
জানা গেছে, এলাকাভেদে এ দানবগর্তের আকার বা গভীরতায় রয়েছে ভিন্নতা। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দানবগর্তের সন্ধান পাওয়া গেছে পশ্চিম সাইবেরিয়ায়। সেখানে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে এমন গর্ত। ২০২০ সালের আগস্টে এক গবেষকদলের চোখে পড়ে এটি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, দানবগর্তের ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। সেটি এখন আবার ফিরে এসেছে পৃথিবীতে। এর জন্যে প্রকৃতি নয়, মানুষই দায়ী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু সংকটের সরাসরি প্রভাবেই তৈরি হচ্ছে এসব দানবীয় গর্ত।
জালালাবাদ / আন্তর্জাতিক /৪৫৭