মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার জয়পাশা এলাকার বাসিন্দা মরহুম তৈয়ব আলীর পুত্র এনামুল হক শিমুল (৩০) গত ৩০ এপ্রিল ২০২২ ইং তারিখে ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ৩০ এপ্রিল সকালে তার নিকট আত্মীয় ইমনের পাঠানো (পারিবারিক অর্থ) ২৫ লক্ষ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তলন করে। তারপর তা ইমনের পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে সে মুবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য এনামুল হক শিমুল ইমনের খালাত ভাই।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার রবিরবাজার এলাকায় সে অর্থ উত্তলন করে ফিরে আসার সময় নাকি শিমুল অপহরণের শিকার হয়। পরদিন শিমুল মুঠোফোনে ইমনের পরিবারকে জানায় সে অপহরণের শিকার হয়েছে এবং অজ্ঞান ছিল। বর্তমানে কুলাউড়া হাসপাতালে আছে। খোজ নিয়ে জানা যায় ঐদিন শিমুল কুলাউড়ার কোন হাসপাতালেই ছিল না । হাসপাতালের পাশের চায়ের দোকানে তাকে কয়েকজন যুবকের সাথে গল্প করতে দেখা যায়। সেই সন্দেহে ইমনের পরিবার তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে সেখানকার আশপাশের লোকজনদের জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন সেখানে সেইদিন অনেক মানুষ খেত খামারে কাজ করছিল এবং কোন অপহরণ কিংবা ডাকাতির কোন আভাস ছিল না।
ঘটনার তিনদিন পর শিমুলের সাথে প্রতিবেশীরা এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করার পূর্বেই শিমুলের ফোন বন্ধ পান এবং পরিবার থেকে জানানো হয় শিমুল নাকি অন্যত্র চলে গেছে।
শিমুলের ব্যক্তিগত অভিযোগ অপহরণ কিংবা ডাকাতি উল্লেখ করার পরেও শিমুলকে আইনের আশ্রয় নিতে তার খালাত ভাই (অর্থ পাঠিয়েছেন যিনি) ইমন সহ আরও কয়েকজন তাকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেন। কিন্তু শিমুল তা না করে সে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ইমন জানান, আমি প্রবাসে থাকি। আমার পরিবারের তেমন পুরুষ ব্যক্তি না থাকায় আমি আমার খালাত ভাই হিসেবে শিমুলকে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তলনের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। এই অর্থ দিয়ে আমাদের বাড়ি বানানো ও জায়গা ক্রয়ের কথা ছিল। কিন্তু শিমুল অর্থ উত্তলন করে অপহরণের নাটক সৃষ্টি করে এবং বর্তমানে সে পলাতক রয়েছে।
ইমন আরও জানান, এ বিষয়ে আমি মৌলভীবাজার গুয়েন্দা বিভাগে একটি মামলা দায়ের করেছি। যদি কোন ব্যক্তি শিমুলের সন্ধান দিতে পারেন তাহলে তিনি ২ লক্ষ টাকা উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। যদি কেহ শিমুলের অবস্থান জানতে পারেন তাহলে নিম্নোক্ত নাম্বারে যোগাযোগ করার আহবান জানানো হয়েছে – রাসেল +৮৮০১৭৭৫০১৮১২৩ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
শিমুলের পরিচিত ব্যক্তি মৌলভীবাজারের বাসিন্দা রাসেল আহমেদ জানান, আমি ঐদিন সকালে শিমুলের সাথে যোগাযোগ করে খোজ নিয়েছি। আমাকে আমার বন্ধু ইমন এ ব্যাপারে জানিয়েছিল। এ কারণে আমি শিমুলের কাছে টাকা তুলতে পেরেছে কিনা এবং ইমনের বাড়িতে তা পৌছানোর ব্যাপারে শিমুলের কাছে জানতে চাই। শিমুল আমাকে জানায় সে টাকা উত্তলন করেছে। এরপর থেকে আমি আর শিমুলের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি।
উল্লেখ্য – ভুক্তভোগীরা জানাচ্ছেন যদি শিমুল অপহরণের শিকার হত তাহলে আমরা আহবান করা সত্বেও কেন সে আইনের আশ্রয় নিলনা এবং ঘটনার একদিন পর সে যোগাযোগ করে আবার তিনদিন পর থেকে নিখোঁজ হয়ে গেল। এতেই আমাদের সন্দেহ সৃষ্টি হয় যে শিমুল ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং বর্তমানে সে পলাতক রয়েছে।
চলবে…