মানুষ মানুষের জন্য! কথাটাই বাস্তব। বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা পরিস্থিতি সামলে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারন মানুষ। এর মধ্যে অনেক জরিপ বলছে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ২০১৮ সালের থেকে ২০ গুণ কমেছে। ক্রয় ক্ষমতা দিনে দিনে সীমিত হচ্ছে। ধরা যাক বাংলাদেশের একটা অংশ সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা। শিল্প এলাকা খ্যাত এই এলাকায় ২০১৯ সালের পর থেকে মানুষের অবস্থা আরও সংকটে রয়েছে। যদিও করোনা মহামারীর সময় ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকায় মানুষ মানুষের পাশে ছিল। যেকোনো মাধ্যমে হোক ব্যক্তি বা সংগঠন অথবা প্রবাসী সংগঠনের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা করেছেন অনেক মানুষ। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সিলেট ৩ আসনের তখনকার সাংসদ সামাদ চৌধুরী- এবং ফেঞ্চুগঞ্জের আরেক রত্ন বাংলাদেশ এথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সহকারী এটর্নি জেনারেল এ্যডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু সহ আরও অনেকে।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ লকডাউনে থাকায় তখন অনেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে ছিলেন আব্দুর রকিব মন্টু, সাবেক সাংসদ সামাদ চৌধুরী, বর্তমান সাংসদ হাবিবুর রহমান হাবিব সহ আরও অনেকে।
সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর যখন উপ-নির্বাচনের ডাক আসে তখন প্রায় ২৭ জনের মত রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মানুষের ধারে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অন্যান্য ব্যক্তিরা ছিলেন জাপার বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী (পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশ নেননি) ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের আসম মিসবাহ সহ বেশ কয়েকজন।
তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব এবং তিনি নির্বাচিতও হন।
এর পর থেকে ২৫ জন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া ব্যক্তিদের কাউকেই তেমনভাবে মাঠে পাওয়া যায়নি। যদিও এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ছিলেন বাংলাদেশ এ্যথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সহকারী এটর্নি জেনারেল এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু।
তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ সহ দক্ষিন সুরমা ও বালাগঞ্জ এলাকায় নিয়মিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা করেছেন। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতেও নির্বাচন পরবর্তী মনোনয়ন না পেলেও কাজ অব্যাহত রেখেছেন। ধরা যাক এবারের রমজান মাসে এবং ঈদুল ফিতর কে উপলক্ষ করে তিনি নিয়মিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
এ বিষয়ে এড মন্টু বলেন, রাজনীতি মানবসেবার একটি বড় অংশ। কিন্তু মানবসেবা করতে গিয়ে এমনভাবে করা উচিৎ যা ইসলামের দৃষ্টিতে ডান হাতে বিতরণ করলে বাম হাত যেন টের না পায়। কিন্তু আজকাল দেখা যায় সাধারণ মানুষকে রোদে পুড়িয়ে বা বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করার পর ফটোসেশন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকে। এজন্য আমি যাই করি মানুষের জন্য তা লোক দেখানোর জন্য নয় আড়ালে থেকে করার চেষ্টা করি। কেননা মানবসেবা একটি মহৎ কাজ। অনেকেই আসেন যারা মানুষকে গরীব অসহায় বিভিন্ন নামে উপাধি দিয়ে ফেইসবুক নানা সংবাদমাধ্যম তাদের দান দক্ষিণা প্রচার করেন। কিন্তু আমি তাতে বিব্রত বোধ করি। আমি শুধু করোনার সময় নয় আমার সাধ্য অনুযায়ী সারাজীবন গোপনে মানুষের সেবা করে যেতে চাই। মনোনয়ন পাওয়ার আশায় আমি মানুষকে ছোট করে দেখানোর কোন ইচ্ছা আমার নেই। আমি এবারও রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতর কে উপলক্ষ করে অনেক জায়গায় বিভিন্ন আলেম উলামা সহ সমাজকর্মীদের মাধ্যমে মানুষকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।
এড. মন্টু ছাড়াও এবারের রমজান ও ঈদে ফেঞ্চুগঞ্জে মানুষের পাশে ছিলেন ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী, আলী হাসান শাহীন সহ আরও কয়েকজন।
এ বিষয়ে এড মন্টু আরও বলেন – নির্বাচন আসলেই মানুষের দান দক্ষিণা এবং প্রচার শুরু হয় কিন্তু ২৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও গোটা কয়েকজন মানুষ আমি দেখলাম মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি সবাইকে আহবান জানান এভাবে নিজের স্বার্থ ছাড়া যেন সবাই মানুষের পাশে থাকেন যাতে করে আমাদের সমাজের উন্নতি হয়।
করোনা মহামারীর সময় ভোটের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে অনেকেই বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত (নির্বাচন পরবর্তী) কাউকেই পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র ফেঞ্চুগঞ্জে নিঃস্বার্থ এক সেবক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন আব্দুর রকিব মন্টু।
ফেঞ্চুগঞ্জে এ পর্যন্ত নির্বাচিত কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান এবং হাতেগুনা কয়েকজন নির্বাচন উপলক্ষ করে মাঠে সরব হওয়ার চেষ্টা করছেন। যদিও তাতে ফলাফল তেমন একটা সূদুর প্রসারি নয়৷ এর জন্য তাহলে কি একটাই প্রশ্ন? ভোটের আশায় কিংবা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় মানুষের পাশে থাকার শুধু দু-একদিন ইঙ্গিত দেন নামেমাত্র কয়েকজন সমাজের সেবক।
সদ্য সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কে গত ২০১৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত জনসেবামূলক কোন কর্মকান্ডে না পাওয়া গেলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি বেশ সরব ভূমিকা রাখছেন। তিনিও আগামীতে নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ নেয় তবে ধানের শীষের একজন প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রশ্ন একটাই আসলে মানুষের পাশে কারা?
উল্লেখ্য করোনা মহামারীর পরবর্তী সময় মানুষ অনেক অসুবিধার সম্মুখীন থাকলেও এসকল মানুষের পাশে যদি সবাই একসাথে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তবেই রাষ্ট্রের কেউ অনাহারে থাকবে না এবং রাষ্ট্রের উন্নতি সম্ভব। কেউ ক্ষুধা নিয়ে থাকবে না, একজন খাবে অন্যজন খাবে না সেরকম নয়, সেবা যেন হয় সকলের জন্য যাতে সবাই মিলে মিশে থাকতে পারেন এবং দেশের উন্নয়নও এই মানবসেবার একটি অংশ।