মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রতিদিনের ন্যায় আজও সকাল থেকে টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালের টিকা দিতে এসেছেন শত শত মানুষ। টিকার লাইনে অনেকটা হ য ব র ল অবস্থা তৈরী হয়েছে। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। বজায় রাখা হয়নি কোনো সামাজিক দূরত্ব।
সরেজমিনে শনিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, সারা দেশের ন্যায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালেও চলমান কোভিড -১৯ এর টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছে। যেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে সেটি করোনা সংক্রমণের জন্য ঝুকিপূর্ণ স্থান। ঠিক তার পাশেই দেয়া হচ্ছে টিকা। টিকা দেয়া জন্য দীর্ঘ লাইন ধরেছেন লোকজনেরা। সেখানে মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। বজায় রাখা হয়নি কোনো ধরণের সামাজিক দূরত্ব। হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলা থেকে পুরাতন ভবনের জরুরী বিভাগের সামন পর্যন্ত ৩-৪ টি লাইনের দৈর্ঘ্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে । মাস্কবিহীন অবস্থায়ও দেখা যাচ্ছে অনেককে। হাট-বাজারের মতোই চলছে ধাক্কাধাক্কি। কে কার আগে যাবে সেই প্রবণতা বিরাজ করছে অনেকের মধ্যে।
টিকা নিতে আসা তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, আমি প্রায় ১ ঘন্টা যাবৎ এই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। অনেকেই আমার পরে এসেও ধাক্কাধাক্কি করে সামনে চলে যাচ্ছে। এখানে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলে নি বা এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা আছে কি না আমারও জানা নেই।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডাঃ বিনেন্দু ভৌমিক বলেন, আমরা সবসময় মাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ঘোষণা করছি। পাশাপাশি পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে কিন্তু মানুষ কোনোভাবেই তা মানছে না। আরেকটি বিষয়, আগে আমরা যেখানে দৈনিক ৬০০ করে টিকা দিতাম এখন গণহারে টিকা দেওয়া হচ্ছে । যার কারণে টিকা গ্রহীতার সংখ্যা আগের ছেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে। তারপরও এব্যাপারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
এছাড়া মৌলভীবাজারের সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভায় গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ উঠেছে। জেলা সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, সকল মানুষকে টিকার আওতায় আনতে জেলার ৬৭টি ইউনিয়নে ১ টি করে কেন্দ্র ও ৩টি বুথ রয়েছে। আর ৫টি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১ টি করে কেন্দ্র আর ২টি বুথ আছে। গণটিকা কার্যক্রমে রেজিস্ট্রেশন করে টিকাদানের সুযোগও ছিলো।