বুকফাটা আবেগের গল্প লিখতে গিয়ে রহস্য তৈরি করলেন সিলেট জজ কোটের এপিপি এডভোকেট শোয়েব আহমদ। ১৩ জুন রবিবার রাত আনুমানিক ১১:০০ টায় তার নিজেস্ব ফেইসবুক একাউন্টে অনেক কিছু তুলে ধরলেন।
প্রথমত, তিনি সামাদ চৌধুরীর সহধর্মিণী ফারজানা চৌধুরী কে নিয়ে আপত্তি জানালেন তিনি ভূল পথে হেটেছিলেন বলে। যার দরুন তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হোন।
দ্বিতীয়ত, তিনি সামাদ চৌধুরীর দীর্ঘদিন ধরে কাছে থাকা নেতাকর্মীদের সুবিধাবাদী উপাখ্যানে ভূষিত করলেন অথচ তিনিও ছিলেন সামাদ চৌধুরীর একজন কাছের মানুষ। যিনি নিজেকে সব সময় সামাদ চৌধুরীর কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন।
তৃতীয়ত, সামাদ চৌধুরীর একান্ত সচিব জুলহাস আহমদ কে নিয়ে তার ধোয়াশার বেড়াজাল কাটেনি তাকেও দোষারোপ করতে ছাড় দেননি। সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুর অন্যতম কারণ বলছেন তিনি ‘ মৃত্যুর ৬ দিন আগে অর্থাৎ ৫ মার্চ ২০২১ ইং তারিখে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার জালালপুরে খেলার মাঠে ধুলো থেকে রক্ষার লক্ষ্যে আপনার মাস্কের ভিতরে কোন ব্যক্তি ফেসিয়াল টিস্যু দিয়েছিল এবং সেই টিস্যুতে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক কোন জীবননাশক জীবানু দেয়া হয়েছিল কি না?
এই ব্যক্তি আসলে কে ছিল। প্রশ্ন জাগে সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুর প্রায় তিনমাসের মাথায় তার এমন বুকফাটা আর্তনাদ এতদিন কোথায় ছিল। এখন কেন তিনি আইনি লড়াইয়ে যেতে চান সেই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন সামাদ চৌধুরীর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না।
আবেগের কারণে নাকি কোন হিংস্রতা তা স্পষ্ট করেননি তিনি। যদিও তিনি সরাসরি দোষারোপ করেছেন অনেককে।
দীর্ঘ ১২ বছরের সামাদ চৌধুরীর নৌকার রাজনৈতিক ফলাফল কি এডভোকেট শোয়েবের এই আবেগী লেখনিতে ফুটে উঠল নাকি অন্য কিছু সময় বলে দেবে।
এডভোকেট শোয়েব আহমদের ফেইসবুক স্টেটাস থেকে নেওয়া অনুরুপ লেখাগুলি:
প্রিয় নেতা কয়েস ভাই যদিও আপনি ইহজগতে নাই কিন্তু আপনার কীর্তির মধ্য দিয়ে যুগ যুগান্তরে অমর হয়ে থাকবেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।
জীবদ্দশায় যাদের উপরে আপনার কোন আস্থা ছিল না তারাই কুশলীব সেজে আজ আপনার সহধর্মিনী মিসেস ফারজানা চৌধুরীর বিশাল ক্ষতি করে দিল যার দরুন মনটা কষ্টের আকাশে পরিণত হয়েছে।ফারজানা ভাবী বুঝতে পারলেন না কারা আপনার বিশ্বস্থ ও কাছের লোক ছিল।উনি জিরোদের হিরো ভাবলেন আর হিরোদের সরিয়ে রাখলেন।বিশ্বাস করি কবর থেকে আপনার আত্মা তা দেখতে পাচ্ছে।
আপনার মৃত্যুটাকে আমি কোনসময় স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মেনে নিতে পারি না কারণ মৃত্যুর ৬ দিন আগে অর্থাৎ ৫ মার্চ ২০২১ ইং তারিখে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার জালালপুরে খেলার মাঠে ধুলো থেকে রক্ষার লক্ষ্যে আপনার মাস্কের ভিতরে কোন ব্যক্তি ফেসিয়াল টিস্যু দিয়েছিল এবং সেই টিস্যুতে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক কোন জীবননাশক জীবানু দেয়া হয়েছিল কি না?
এবং করোনা আক্রান্তের পর আপনার ব্যক্তিগত সহকারী জুলহাস আহমদ কেন বিষয়টি ৩ দিন অর্থাৎ আপনাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়ার আগ পর্যন্ত গোপন করেছিল? এমনকি আপনার অসুস্থতার বিষয়টি কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জানালো না? বা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালো না? এই বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বিধায় আপনার একজন অনুরাগী হিসেবে আমি শীঘ্রই আদালতে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারামতে দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিতেছি।
আশাকরি এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের তদন্ত সংস্থা কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন অন্যথায় ভবিষ্যতে আরো এমপি – মন্ত্রীদের জীবন বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলা দায়েরের পর সব বিষয় উন্মুক্ত হবে বলে বিশ্বাস করি।এ ব্যাপারে কয়েস ভাইয়ের গুনগ্রাহী ও আওয়ামী লীগের নেতা -কর্মীর সহযোগিতা এবং পরামর্শ কামনা করি।
জালালাবাদ / মামুন/ ৪৬৭৩/জুন-