ভোটের যুদ্ধ : এপারে নৌকা – লাঙ্গল, ঘড়ি
ওপারে স্বতন্ত্র : কোন পথে সিলেট ৩ আসন
সিলেট ৩ আসনের উপ-নির্বাচন আগামী জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়াত সাংসদ সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুর কারণে সিলেট ৩ আসন শূন্য হয়।
এখন পালা এমপি নির্বাচিত করার। এ অবস্থায় গত তিন জাতীয় নির্বাচনে সাংসদ ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জের সামাদ চৌধুরী। এবার কি তবে দক্ষিণ সুরমায় যাচ্ছে সাংসদ পদটি?
ভোটের যুদ্ধের অবস্থান জেনে নেওয়া যাক।
প্রতীক (নৌকা)
প্রার্থী – হাবিবুর রহমান হাবিব
এলাকা- দক্ষিণ সুরমা
প্রার্থী হিসেবে বেশ তরুণ একজন রাজনীতিবিদ বলা চলে হাবিবুর রহমান হাবিবকে। আজ (শনিবার) অনেকটা চমক হিসেবে তিনি নৌকা প্রতীক মনোনয়ন পেয়েছেন। তার এলাকা দক্ষিণ সুরমার মানুষ অবশ্যই চাইবে ১২ বছরের শূণ্যতা দূর করে সংসদ সদস্য তাদের এলাকায় রাখতে। এনিয়ে তৃণমূলে অনেক দর কসাকসি রয়েছে আওয়ামী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। কেননা প্রত্যাশিত প্রার্থীর তালিকায় ছিলেন আরও ২৪ জন। সে কারণে নিজের জয় নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই হাবিবকে দলের পুণঃগঠন করে মাঠে নামতে হবে।
স্বতন্ত্র- একমাত্র প্রার্থী
মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী
এলাকা- ফেঞ্চুগঞ্জ
শুরু থেকেই প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। তিনিও হাবিবের তরূণ। সে কারণে তার মাঠের অবস্থান মোটামুটি ভালই বলা চলে, কেননা ফারজানা সামাদ চৌধুরী মনোনয়ন না পাওয়ায় ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তিনিই তালিকায় রয়েছেন। যদিও তিনি কোন রাজনৈতিক পদবি নিয়ে নির্বাচনে আসেন নি সে কারণে ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে তার জন্য ভোটের ময়দানে কাড়াকাড়িতে লড়তে হবে লাঙ্গল ও নৌকা কে। এককথায় বলা চলে ফেঞ্চুগঞ্জের জন্য এখন এক দৌড় মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী। যদিও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী কিন্তু জাতীয় দুই বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন এখন তিনি। কেননা ভোটের মাঠে এক কথা। প্রতীক দলীয় বনাম স্বতন্ত্র লড়াই স্বাভাবিক হয়ে থাকে।
জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)
আতিকুর রহমান আতিক
এলাকা- দক্ষিণ সুরমা
বড় দুই দলের দলের মনোনিত প্রার্থীই একই উপজেলার হওয়ায় ভোটের কাড়াকাড়ি স্বাভাবিক থাকবেই৷ সে কারণে সবার নজর থাকবে ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের দিকে। এ কারণে লাঙ্গলও পিছিয়ে নেই। যদিও আতিক একজন হেভিওয়েট প্রার্থী তবুও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে স্বতন্ত্র এবং নৌকা দুই পাল্লায় রাখলে চলে। হাবিব – আতিক দুজনেই চমকের নাম তাদের সাথে যোগ হয়েছে আরেক তরূণ মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী।
এ বিষয়ে মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী বলেন – আমি শতভাগ আশাবাদী আমি নির্বাচনে ভাল অবস্থান পাব। কারণ আমি জনগণের জন্য তাদের প্রতীক হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান- আমি মনে করি নির্বাচন সঠিক হলে জাতীয় পার্টি তার হারানো গৌরব সিলেট ৩ আসনে ফিরে পাবে।
সময় এখন অপেক্ষার। যদি আর কোন প্রার্থী নির্বাচনে না আসেন তবে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
অন্যদিকে হেফাজতের ভোট এক পাল্লায় যাচ্ছে। তাদের মনোনিত প্রার্থী খেলাফত মজলিসের দেলোয়ার হোসেন। সে কারণে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে তাদের ভোট ঘড়ির বাক্সেই পড়বে।
জালালাবাদ ভিউ / সিলেট / রুমেল/৩৫৭২