সিলেটে দিনদিন বেড়েই চলছে অপরাধ প্রবণতা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানির খবর প্রতিদিন শুনতে পাওয়া যায় বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাশাপাশি আনাছে কানাছে দিনের পর দিন ভয়ংকর রুপ ধারন করতে যাচ্ছে ‘কিশোর গ্যাং’। অসামাজিকতায় ডুবে যাচ্ছে আধ্যাত্মিক রাজধানী নামে খ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) পদধুলিতে ধন্য পবিত্র নগরী। সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের পাল্লায় শুধু কিশোর নয় উঠনি বয়সী তরুণ বখাটেরাও যোগ হচ্ছে প্রতিদিন। ছিনতাই মাদকসেবন, নারীবাজি আর জুয়ার আসর তাদের নিত্য দিনের পেশায় রুপ নিয়েছে । তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে একে অপরের সাথে ঝগড়া ঝাঁটি খুন, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই, সহ নানান ধরনের অপরাধের ঘটনার জন্ম দিয়ে থাকে সিলেট নগরীতে।
আর এসব যুবকদের বেশির ভাগ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে বেকার, টমটম, অটোরিকশা, সিএনজি, লেগুনার চালক, আবার অনেকে রয়েছেন আলালের ঘরের দুলাল বাবার সন্তান। কিশোর গ্যাং শহর ছড়িয়ে গ্রামঞ্চলে পৌছে গেছে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় রাস্তার পাশে বসে তরুন যুবকেরা মোবাইল ফোনে নানান ধরনের গেইম খেলায় ধ্যানমগ্ন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক সেবন, ছিনতাই, তির জুয়া, ব্লেকমেইল, মারামারি এসব কাজ এখন ‘কিশোর গ্যাং’র মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। অনেক সময় ‘কিশোর গ্যাং’র সদস্যরা আইনের আওয়াতায় আসলেও অদৃশ্য আড়ালে থেকে যায় তাদের নেতৃত্ব দানকারী গডফাদাররা।
সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, সুরমা মার্কেটের সামন, কুদরত উল্লাহ মার্কেটের সামন হতে জিন্দাবাজার পয়েন্ট পর্যন্ত মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রতিদিন ঘটে থাকে গ্রামের সহজসরল মানুষ বেশিরভাগ এদের কৌশলের শিকার হয়ে থাকেন এরা ছলচাতুরীর মাধ্যমে মুঠোফোন হাতিয়ে নিয়ে থাকে। অপরদিকে এই পয়েন্ট গুলোতে প্রতিদিন শতশত পতিতাবৃত্তিকে খোলামেলা ঘুরাফেরা করতে দেখা যায় তারা খদ্দরের দৃষ্টি কেড়ে নিতে নানান ধরনের ভঙ্গিমা প্রদর্শন করে থাকে। পতিতাদের খপ্পরে পড়ে অনেকে সর্বস্ব হারাচ্ছেন প্রতিদিন লোকলজ্জার কারণে তা প্রকাশ করেননা। প্রশাসনের ও এদের বিরুদ্ধে তেমন ভুমিকা চোখে পড়েনি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা যায় সিলেট নগরীর ৬ থানা এলাকায় ২০০ জন তরুণের নাম ‘কিশোর গ্যাং’র সাথে জড়িত হিসেবে তালিকা করা হয়েছে। শীঘ্রই এদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ শুরু করবে প্রশাসন তবে শুধু প্রশাসনের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকলে হবেনা এ থেকে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত রক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে বলে জানিয়েছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
আর এসব অপরাধ প্রবণতা দিনদিন বৃদ্ধি পাবার কারণ হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয়, নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছে আমাদের কোমলমতি কিশোর, তরুণেরা আমাদের উচিত সন্তানেরা বের হয়ে কোথায় যাচ্ছে, কি করছে, কার সাথে চলাফেরা করছে তার খোঁজখবর নেয়া বিশেষ করে প্রয়োজন ব্যতিত স্মার্টফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা, তাকে সামাজিক খেলাধুলার সাথে জড়িয়ে রাখা।
প্রশাসনের উচিত হবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসতে যেসব তরুন, যুবক, কিশোর নানান অপরাধের সাথে নিজেকে যুক্ত করছে তাদের তালিকা তৈরি করে অভিভাবকদের বিষয়টি অবহিত করা, পাশাপাশি এ নিয়ে সভা, সমাবেশ, সেমিনার করা যাতে করে জনসচেতনতা তৈরি হয় এবং এসব কিশোরদের যারা অপরাধের সাথে জড়িয়ে নিতে কাজ করছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তি প্রদানের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।