সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন
Logo
শিরোনাম :
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ওসমানী নগরে এমপি মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে জুতা মিছিল সিলেট জেলা পরিষদের নির্বাচনে আলোচনায় ‘কয়েস’ গোলাপগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়ে এনামুল কবিরের অপকর্ম সিলেটে তালামীযের বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত “২৪ বছরে লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত” কুয়েত প্রবাসী ৩ সংবাদকর্মীদের একান্ত মতবিনিময় ফেঞ্চুগঞ্জে আল মাহাব্বাহ হাফিজিয়া মাদরাসা ও মসজিদ উদ্বোধন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ট্রাক-পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মেম্বার প্রার্থী জনি আলোচনায় গোলাপগগঞ্জে সাংবাদিক রাসেলের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি: থানায় জিডি রাজনগরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন দারুল কিরাত কার্ডিফ জালালিয়া মসজিদ শাখার পুরুষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান নাবিন রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলামের উদ্যোগে চা শ্রমিকদের অর্থ বিতরণ এসএমপি কমিশনারের সাথে সিলেট বিভাগীয় রিপোর্টার্স ক্লাব নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সাজন আহমেদ
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৫৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সাজন আহমেদ,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান এর ১৩ম মৃত্যু বার্ষিকী আজ ৫ই সেপ্টেম্বর সোমবার। ১৩ম মৃত্যু উপলক্ষে নানা কর্মসূচী পালন করেছে এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ, মরহুমের পরিবার ও তাঁর রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল( বিএনপি)। এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
মরহুম এম সাইফুর রহমান কর্মময় জীবনে তার অনন্য গুণ দ্বারা মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন। তার সাদামাঠা ব্যক্তিগত জীবন ছিল দৃষ্টিগ্রাহ্য ও অনুকরণীয় । ছিল না চাওয়া পাওয়ার অস্থিরতা এমনকি উচ্চ আকাঙ্খা উচ্চ বিলাসিতাও  ছিলনা তার পছন্দের মধ্যে। কথা বলতেন মারপ্যাচের জটিলতা ছাড়াই সরল সহজ আর ইংরেজী মিশ্রিত আঞ্চলিকতায়। একারনেই দেশ বিদেশে সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ছিল তাঁর। দেশ দুনিয়ায় নাম কুড়ানো মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনের সেই ছেলেটি দেশের অন্যতম অর্থমন্ত্রী যিনি একনাঘাড়ে ১২ বার সংসদে বেশ সফলতার সাথে বাজেট পেশ করেছেন। কর্মে তারঁ অনন্য গুণ তিনি উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়নও করতেন। এটাই তার অবিচল আস্থা বিশ্বাস আর কাজের প্রতি নিখাঁদ আন্তরিকথা ও কর্তব্যকর্মে দ্বায়িত্বশীলতার নজির। নিজ জন্মস্থান মৌলভীবাজার সহ পুরো সিলেট বিভাগেই রয়েছে তার চোখ ধাধাঁনো উন্নয়নের চোঁয়া।যার কারণে তাকে  অন্যতম সফল অর্থমন্ত্রী বলে সম্বোধন করা হয়। সিলেটের প্রত্যেকটি জায়গায় জড়িয়ে আছে সেই কৃর্তিমানের নামটি।
সংক্ষিপ্ত জীবনী: এম সাইফুর রহমান  ১৯৩২ খ্রীষ্টাব্দের ৬ অক্টোবর, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার  বাহারমর্দনে জন্মগ্রহণ করেন । তার পিতার নাম  মোহাম্মদ আব্দুল বাছির ও মাতা তালেবুন নেছা। ৩ ভাইয়ের মধ্যে সভার বড় ছিলেন তিনি, মাত্র ৬ বছর বয়সে তাঁর পিতা মারা যান। সে সময়ে তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন চাচা মোহাম্মদ সফি।
শিক্ষাজীবন: গ্রামের মক্তব ও পাঠশালা শেষ করে তিনি ১৯৪০সালে জগৎসী গোপালকৃষ্ণ উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর ১৯৪৯সালে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিকুলেশনে উর্ত্তীণ হন। সিলেটের এমসি কলেজ থেকে আইকম পাশ করে ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর তিনি ব্যারীস্টারী পড়ার জন্য লন্ডনে চলে যান সেখানে পৌঁছার পর মত পাল্টে যায় তার, ব্যারিষ্টারীর পরিবর্তে পড়েন র্চাটার্ড একাউন্টেন্সি। ১৯৫৩-৫৮ সময়কালে পড়াশোনার পর ১৯৫৯ সালে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ফেলোশীপ অর্জন করেন। এছাড়া তিনি  ১৯৬২ সালে অ্যাডভান্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি আর্থিক ও মুদ্রানীতি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতে বিশেষায়িত শিক্ষা গ্রহণ করেন।
কর্মজীবন:সাইফুর রহমান ১৯৮০ থেকে ১৯৯৬ সাল মেয়াদে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায় (ইইসি), এশিয়া ও প্যাসেফিকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসকাপ), কমনওয়েলথ এবং জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে (আঙ্কটাড) বাংলাদেশের অর্থ ও বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৯৫ সালে কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া ঐ বছর বসনিয়ায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) সম্মেলনেও তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান ছিলেন। তিনি বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (ইফাদ)-এ বাংলাদেশের গভর্নর ছিলেন। ১৯৯৪ সালে মাদ্রিদে  অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সম্মেলনে তিনি সভাপতিত্ব করেন।সাইফুর রহমান ১৯৬২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ পেশাগত জীবনে গড়ে তোলেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতমানের ‘রহমান রহমান হক’ নামীয় একটি নিরীক্ষা ফার্ম। এছাড়া তিনি কেমিক্যাল, তেল-গ্যাস উত্তোলন, ট্রান্সপোর্ট, ব্যাংকিং, ইন্স্যুরেন্স ইত্যাদি বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)-এর প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট  অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স-এর প্রিন্সিপাল এবং বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতির প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
দাম্পত্য জীবন:  ১৯৬০ সালের ১৫ জুলাই বেগম দূররে সামাদ রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ৩ পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। ২০০৩ সালে তার স্ত্রী ইন্তেকাল করেন। ২০০৯ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর  এক মর্মান্তিক সড়ক র্দূঘটনায় তিনিও  চলে যান পরপারে । তার শেষ ইচ্চানুযায়ী বাহারমর্দনে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
রাজনীতিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে সাইফুর রহমান ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি গ্রেফতার হন এবং এক মাস কারাবরণ করেন। সাইফুর রহমান ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান জাতীয় বেতন কমিশনে প্রাইভেট সেক্টর হতে একমাত্র সদস্য মনোনীত হন। তিনি ১৯৭৩ ও ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য ছিলেন।
সাইফুর রহমান ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলে যোগ দেন। এ দলটিই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) রূপান্তরিত হয়। তিনি ১৯৭৯ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মৌলভীবাজার সদর এলাকা থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রী এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টেকনোক্র্যাট অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশে মুক্ত বাজার সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রবর্তক হিসেবে সমধিক পরিচিত। ১৯৭০- এর দশকের শেষের দিক থেকে এ প্রক্রিয়া চালু হয়।  তিনি ১৯৯৬ সালে  এবং পুনরায় ২০০১ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় পুনরায়  অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করের পরিসর বৃদ্ধি করে মূসক (মূল্য সংযোজন কর) প্রথা প্রবর্তন করেন। ১৯৯০-এর দশকের প্রথমদিকে তিনি ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। এছাড়াও ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালে টেকনোক্র্যাট অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভাসমান মুদ্রাবিনিময় হার নীতিমালা প্রণয়ন, বাণিজ্য উদারিকরণ, বেসরকারীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন  এবং  শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর সূচনা করেন।
স্বীকৃতি সম্মাননা: ভাষা আন্দোলনে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ  ২০০৫ সালে সাইফুর রহমানকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
এছাড়া তাকে অর্ডার নেশন্যাল, সেনেগালের সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মৃত্যু:উল্লেখ্য ২০০৯ সালের আজকের এই দিনে এম সাইফুর রহমান মৌলভীবাজারের নিজ বাড়ী বাহারমর্দন থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার ঢাকা- সিলেট মহা সড়কের খড়িয়ালা নামক স্থানে  এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরন করেন ।

১৩ম মৃত্যুবার্ষিকীতে কর্মসূচী : ১৩ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এম.সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এর উদ্যোগে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। স্মৃতি পরিষদ ও মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর গ্রামের বাড়িতে কোরানে খতম,মিলাদ,দোয়া ও শিরণী বিতরণ করা হয়। এম.সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ ছাড়াও দলীয়ভাবে বিএনপি’র স্থানীয় জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা সকালে মরহুমের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ,মিলাদ মাহফিল,দোয়া ও  স্মরণসভাসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd.com