সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বড় এবং প্রাচীন শত বছরের পুরনো শাহী ঈদগাহ ‘হাটুভাঙ্গা শাহী ঈদগাহ’র পূর্বদিক গত প্রায় ১ বছর ধরে ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে। যত দিন যাচ্ছে ধীরে ধীরে টিলার পাশ ভেঙে ঈদগাহ প্রায় অস্থিত্ব হারানোর পথে। প্রচলিত রয়েছে এই ঈদগাহ রারো গ্রামের মানুষের জন্য নির্মিত এবং প্রতি বছর দুইটি ঈদে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লী নামাজ আদায় করেন। এ বছর করোনার কারণে গত দুই ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়নি। যে কারণে সাধারণ মুসল্লী ঈদগাহের কাছে যাননি। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ঈদগাহ ভেঙে যাচ্ছে। আগে ঈদগাহের দেয়ালের পাশ দিয়ে হাটুভাঙ্গা গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের চলাচল ছিল। কিন্তু এখন আর সেই রাস্তাই নেই। এর ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও। বর্তমানে ঈদগাহের মূল ফটকের গেইটের পাশে যে ভাঙ্গন রয়েছে তাতে সাধারণ মানুষ যেকোনো সময় যদি সেই খাদে পড়ে তবে নিহত হওয়ার আশংকা থাকার এর পাশদিয়ে গত ৬ মাস ধরে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ রয়েছে। কিছু ঈদগাহের মেরামত কিংবা উন্নয়ন কাজে দৃষ্টি নেই কতৃপক্ষের। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে হাটুভাঙ্গা শাহী ঈদগাহের মেরামত কাজ ও দুইটি সিড়ি নির্মান করান মরহুম সাবেক সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। তিনি নিজেই এই ঈদগাহে প্রতি ঈদের জামায়াত আদায় করতেন। সে সময় প্রায় ৬০০ গাছ লাগানো হয়েছিল। এখন তা বিক্রির উপযোগী হলেও তা কতৃপক্ষ বিক্রি না করায় প্রায় সময় ঝড় তুফানে গাছগুলো ভেঙে পড়ছে।
এ ব্যাপারে – স্থানীয় বাসিন্দা আলি হোসেন জানান, আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে বেশি চিন্তায় রয়েছি। খেলাধুলার কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আরেক বাসিন্দা জানান, এখনই ভাঙনরোধে একটি টেকসই গার্ড ওয়াল প্রয়োজন। এভাবে চলতে থাকলে আগামী বর্ষায় ঈদগাহর অর্ধেক অংশ ভেঙে যাবে।
হাটুভাঙ্গা শাহী ঈদগাহ কমিটির বর্তমান সভাপতি ফেঞ্চুগঞ্জ মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুফিয়ানুল করিম চৌধুরী অসুস্থ অবস্থায় একটি হাসপাতালে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম।
এলাকাবাসীর দাবি যত দ্রুত সম্ভব ঈদগাহ মেরামত কাজ শুরু হউক।