গোলাপগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাদাবাজি করে আসছে কথিত সাংবাদিক এনামুল কবির। সাংবাদিকতার মত মহান পেশাকে টাকা উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাই হচ্ছে তার কাজ। নিজ এলাকায় মানুষকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী, মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে নানা ভাবে চাদাবাজি করে আসছে সে। কোন ধরনের চাকুরী, ব্যবসা বাণিজ্য না করলেও দিব্যি ভালো দিন কাটছে তার। এলাকায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। সে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা ইউনিয়নের খাগাইল গ্রামে বাসিন্দা।
কথিত সাংবাদিক এনামুল কবির বিগত ঈদুল আযহায় আছিরগঞ্জ কুরবানীর পশুর হাটে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাদাবাজির সময় ব্যবসায়ী ও জনগনের রোশানলে পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তাকে রেহাই দেয়া হয়। সারা বছরই নানা অপকর্ম আর অন্যায় ভাবে টাকা উপার্জনের ধান্দায় তাকে এনামুল।
জানা যায়,জানা যায়,গত বছর উত্তর আলমপুর গ্রামে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেপ্তার হলে পুলিশের সাথে গ্রামের কয়েকজনের ভুলবসত তর্ক বির্তক শুরু হয়।এনামুল কবিরের ষড়যন্ত্রে গ্রামের ৫/৬ জন বখাটে যুবক পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে গ্রামের নিরীহ লেকেদের ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অপরাধী চিহ্নিত করে।এই বিষয়কে কেন্দ্র করে গ্রামের নিরীহ লোকেদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা হিসেবে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।তার ভয়ে ঐ সময় গ্রামের ২ যুবক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।
বিগত ৩১ আগস্ট,২০২২ইং বাদেপাশা ইউনিয়নে নবাগত চেয়ারম্যান জাহিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করে সে। মূলত তার ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলে ব্যর্থ হয়ে স্বনামধন্য এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করে এনামুল। এছাড়া এলাকা কোন ধরনের মারামারি অথবা জটিলতার সৃষ্টি হলে টাকাওয়ালাদের পক্ষেই তাকে এনামুলের অবস্থান।
৩ সেপ্টেম্বর বাদেপাশা ইউনিয়নের উত্তর আলম গ্রামের সৌদী প্রবাসী ইসলাম উদ্দিনের পুত্র রাসেল আহমদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন দেয় কথিত এনামুল। রাসেল আহমদের জায়গা জমি সংক্রান্ত জটিলতা এবং গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা চলমানের খবরটি সে জানতে পেরে সাহায্য করার কথা বলে ১০ হাজার টাকা দাবী করে। দীর্ঘদিন ৮ মিনিটের আলাপকালে তার কৌশলী চাদাবাজির বিষয়টি বুঝতে পারলে তার কাছ থেকে কোন ধরনের সাহায্য না নেয়ার কথা জানায় রাসেল আহমদ। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সিলেটের একটি অনলাইন পোর্টালে রাসেল আহমদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে এনামুল কবির। টাকার জন্য একি পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছে এই কথিত সাংবাদিক।
স্থানীয়দের সাথে এনামুল কবিরের বিষয়ে জানতে চাইলে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, সে সাংবাদিক কি না জানি না। তবে পরিচয় দেয় সব জাগায়। এছাড়া অনেকেও তাকে মদ এবং গাজা খোর বলে জানান।
উদ্দেশ্য পদোনিত, মিথ্যা এবং মানহানীকর এমন সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি তাৎক্ষনিক অনলাইন পোর্টাল সিলেট প্রতিদিন’র সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক সাজলু লস্করকে অবহিত করা হলে তিনি জানান, এনামুল কবির এবং রাসেল আহমদের ব্যক্তিগত কোন জটিলতা বা বিরোধিতা থাকলে এ নিয়ে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা ঠিক নয়। বিষয়টি তিনি এনামুল কবিরের সাথে আলাপ এবং সুন্দর নিরসনের আশ্বাস প্রদান করেন।
এব্যাপারে রাসেল আহমদ প্রতিবেদককে জানান, আমাদের পারিবারিক মামলা রয়েছে। বিষয়টি তিনি জানতে পেরে আমাদের সব ধরনের সহযোগিতার করবেন বলে কথা শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি আমাদের পক্ষে সংবাদ প্রচার, পুলিশের সাথে আলাপ করে সহযোগিতা এবং বিভিন্ন ফায়দা দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবী করেন। আমি তার কৌশল বুঝতে পেরে সাহায্য লাগবে না এবং টাকা দিতে পারব না জানালে তিনি আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে আমি ও আমার পরিবারের সম্মান ক্ষুন্ন করার হুমকি দেন। পরে রাতে ‘সিলেট প্রতিদিন’ অনলাইন পোর্টালে আমার ছবিযুক্ত সংবাদ দেখতে পাই। এসময় তিনি জানান বিষয়টির সুন্দর সমাধান না পেলে আইনের শরনাপন্ন হবেন রাসেল আহমদ।
এব্যাপারে বাদেপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদ উদ্দিন বলেন, আমি নব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আমার ইউনিয়নবাসীর সর্বাত্মক উন্নয়নের লক্ষে কাজ করতে চাই। ইতিমধ্যে আমার জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। কথিত সাংবাদিক পরিচয়কারী এনামুল কবির উদ্দেশ্য মুলক ভাবে আমাকে হেয়পতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে সংবাদ প্রচার করে। সে এভাবে এলাকায় অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং তার ব্যক্তিগত জের ধরে মানহানীকর সংবাদ প্রচার করে থাকে। কারো সাথে ব্যক্তিগত বিরোধী থাকতেই পারে, এজন্য গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা ঠিক নয়।