তিনি মনে করেন, গভীর রাতে দলবলে ক্লাব বা বারে যাওয়াটা কী পরীমনির জন্য নতুন কিছু নয়। এখন পরীমনি সবার দিকে যে অভিযোগের কামান দেগেছেন, সবার বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিচ্ছেন, তার মানে এই নয় যে, এক পরীমনিই সত্য, বাকি সবাই-সবকিছু মিথ্যা?
পরীমনিকাণ্ড নিয়ে আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী রাগিবের একটি লেখা প্রকাশ হয়েছে-
লেখাটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘পরীমনির চোখের জলে অনেকের চোখ ভিজেছে। অনেকের চোখ আবার কপালেও উঠেছে-‘ব্যাঙের আবার সর্দি হয় কী করে?’ এই বলে। কিন্তু টিভি পর্দায় তার হাউমাউ কান্না, বিচিত্র আবেগী সংলাপে নিতান্ত অবিশ্বাসীর মনেও এ বিশ্বাস জন্মেছিল, ‘মেয়েটির জীবনে নিশ্চয়ই ভয়ংকর কিছু ঘটেছে’। সেই কান্নার ফলও নগদ। ১২ ঘণ্টা না পেরোতেই মামলা।
ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মা’ এবং আইজিপিকে ‘চলচ্চিত্র বন্ধু’ ডাকার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই প্রধান ও দ্বিতীয় প্রধান আসামিসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার। আর গণমাধ্যমের লাগাতার ও গনগনে প্রচারে পরীমনি রাতারাতি বনে গেলেন ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’। সিনেমা নয়, ‘ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার’ মামলা দিয়ে সিনে পর্দার নায়িকা বনে গেলেন জীবন পর্দার নায়িকা। কিন্ত গল্পটা যে থ্রিলার, এর পরতে পরতে যে এতটা ঠমক-চমক, সাধারণ দর্শক দূরে থাক খোদ পরীমনিও বোধ হয় তখন ভাবতে পারেনি।
কেঁচো খুঁড়তে গিয়েই বেরিয়ে এলো সাপ। জানা গেল, বোট ক্লাবের ঘটনার আগের দিন রাত পৌনে দুইটায় পরীমনি মদের জন্য সদলবলে হানা দিয়ে ভাংচুর ও কর্মচারীদের মারধর করেছেন গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে।
ক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুটি ঘটনার চিত্রনাট্য প্রায় এক-গভীর রাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে বারে প্রবেশ, চাহিদা মোতাবেক মদ না পেয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি-হট্টগোল, ক্লাবের লোকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, গায়ে হাত তোলা, ভাংচুর, ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে উল্টো পুলিশ ডাকা, তারপর প্রস্থান। দুই ঘটনার পার্থক্য একটাই-বোট ক্লাবে পাল্টা মার খেয়েছেন; কিন্তু কমিউনিটি ক্লাবে পাল্টা মারটা খাননি, গুলশান থানার পুলিশের হস্তক্ষেপে অক্ষত শরীরে ফিরে আসেন।
গুলশান থানার পুলিশ এ ঘটনার কেবল প্রত্যক্ষদর্শী নয়, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিবৃতিও দিয়েছে। তা ছাড়া গোটা নেট দুনিয়া ওই ঘটনার ভিডিওতে সয়লাব। তারপরও পরীমনির দাবি, ‘এটা নাকি মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক’। ধরে নিলাম, অভিযুক্ত নাসির আহমেদের বক্তব্য মিথ্যা। কিন্ত অন্যরা? একজন পরীমনি বিভিন্ন বক্তব্যে বনানী থানা, গুলশান থানা, ক্লাব কর্তৃপক্ষ, নিজের শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি থেকে ঘটনা সংশ্লিষ্ট প্রায় সবার দিকেই অভিযোগের কামান দেগেছেন। সবার বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিচ্ছেন। তার মানে এক পরীমনিই সত্য, বাকি সবাই-সবকিছু মিথ্যা?
জালালাবাদ /বিনোদন /৪৬৭৭