আমেরিকার খ্যাতিমান বিজ্ঞানী মাইকেল এইচ. হার্ট ১৯৭৮ সালে একটি বই লিখেছিলেন। বইয়ের নাম The 100: A Ranking Of The Most Influential Persons In History. উক্ত বইয়ে লেখক এমন একশজন মহান ব্যক্তির তালিকা প্রণয়ন করেছেন, যারা স্ব স্ব যোগ্যতার দ্বারা ইতিহাসের গতিপথ পালটে দিয়েছেন। যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করেছেন, জ্বালিয়েছেন আলো। এরপর লেখক উক্ত একশজন ব্যক্তির মধ্যে ক্রমবিন্যাস করেছেন এবং সবার উপরে যে নামটি রেখেছেন, সেটি হলো “মুহাম্মদ”। হ্যাঁ, লেখকের তালিকায় শীর্ষস্থানে ছিল আমাদের নবী সায়্যিদুনা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র নাম। অবাক করার বিষয়! একজন পশ্চিমা ধর্মপরায়ণ খ্রিস্টান, একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী, কেন ইসলামের নবী মুহাম্মদ ﷺ-কে মানবতার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে স্বীকৃতি দিলেন?
জবাবটি দিয়েছেন লেখক নিজে। বলেছেনঃ “বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকার শীর্ষস্থানে আমি মুহাম্মদকে বেছে নিয়েছি, এ ব্যাপারটি অনেকের কাছে বিস্ময়কর লাগতে পারে। অনেকের মনে প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। কিন্তু তিনি (মুহাম্মদ ﷺ) ছিলেন মানব ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি একইসাথে আধ্যাত্মিক এবং জাগতিক উভয় ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সাফল্য লাভ করেছেন।”
[The 100: A Ranking Of The Most Influential Persons In History, New York, 1978, p. 33]
এর বিপরীত চিত্রও আমরা দেখেছি। পশ্চিমা বিশ্বে, প্রথমত ইউরোপ এবং পরে আমেরিকায় যুগের পর যুগ আমাদের নবী ﷺ-কে খুব খারাপভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কখনো সত্যকে ভেঙ্গেচুরে, কখনো নির্জলা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নির্বোধ পাদ্রীরা বদনাম ছড়িয়েছে আমাদের নবী ﷺ-এর নামে। এর বড় অংশটি এসেছে ক্রুসেড যুদ্ধের সময়কালে। পরবর্তীতে পশ্চিমাদের “ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী” সালমান রুশদী এসব কুৎসা ছড়িয়ে দিয়েছে দুনিয়াজুড়ে। বিষয়টি নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন গত শতাব্দীর খ্যাতিমান গবেষক, এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম মন্টগোমরি ওয়াট। বলেছেনঃ “মানব ইতিহাসের আর কোনো মহান ব্যক্তিত্বকে পশ্চিমা বিশ্বে এতো বাজেভাবে (so poorly) উপস্থাপন করা হয়নি, যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে মুহাম্মদকে।”
[Mohammad At Mecca, Oxford, 1953, p. 52]
এই দ্বিচারিতার কারণ কী? মাইকেল হার্ট আমার নবীর মধ্যে এমন কী দেখেছেন, যা আর কেউ দেখেননি? নাকি অন্যরাও দেখেছেন? ব্যক্তি হিসেবে কেমন ছিলেন আমার নবী? কী মানবিক গুণাবলী ছিল তাঁর মধ্যে, কী কী মূল্যবোধ তিনি মানবজাতিকে শিখিয়ে গেছেন, কতটুকু সাফল্য তিনি লাভ করেছেন; প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের একজন পণ্ডিতও কি সেটি চোখ মেলে দেখেননি? এটি কিভাবে সম্ভব? আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজতে চাচ্ছি।
[আল-মুজতাবা সিরিজ]